Monday, March 13, 2017

বিশ্বকাপ - ২০১৫ নিয়ে কিছু কথা

এই লেখাটা ২০১৫ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেসবুকে নোট হিসেবে পাবলিশড করেছিলাম । এবার নিজস্ব ব্লগে দিয়ে রাখলাম !!
ক্রিকেট খেলাটা আমার খুব ভাললাগা বিষয়গুলোর মধ্যে একটা । আমি শুধু একজন ক্রিকেটপ্রেমী না, যখন ক্রিকেট খেলা দেখি তখন নিজের চিন্তা ভাবনা থেকেই ম্যাচটা বিশ্লেষন করার চেষ্টা করি । সব সময়ই ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী গেমপ্লান তৈরি করাটাও আমার একটা অভ্যাস । কোন ব্যাটসম্যান কোন শটটা ভাল খেলছে, কোন ধরনের বল খেলতে পারছে না বা বোলার কোন বলটা করলে সুবিধা পাচ্ছে এসব ভাবার চেষ্টা করি আর কি । এখন আর সেভাবে খেলা দেখার সময় হয়ে উঠে না তবুও নিজের সেই ক্ষুদ্র বিশ্লেষনী শক্তি,কন্ডিশন আর দলগুলোর শক্তিমত্তা ও খেলোয়ারদের সাম্প্রতিক ফর্ম খেয়াল রেখে আমি চেষ্টা করেছি বিশ্বকাপের সেরা ৫ টি দলকে নিয়ে কিছু লেখার । আর এই ৫ দলের সাথে থাকছে আমার নিজের দেশের সম্ভাবনা ও সুযোগ নিয়ে কিছু কথা ।
ক্রিকেটকে বলা হয় মহা অনিশ্চয়তার খেলা তাই ক্রিকেট নিয়ে প্রেডিকশন করাটা একটু বোকামী । তারপরও আমার কাছে ৪ সেমিফিইনালিষ্ট এর মধ্যে ৩ টা দল হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর সাউথ আফ্রিকা । অপর জায়গাটায় আসতে পারে ভারত,পাকিস্তান বা শ্রীলংকার মধ্যে উপমহাদেশের যে কোন একটা দল। এটা কিছুটা খেলার কথা চিন্তা বলা আর কিছুটা আইসিসির উপর সন্দেহ করে বলা । কারন দিনশেষে ওরা ব্যবসায়ী, ব্যবসার স্বার্থের জন্য ওরা কোন দলকে বিশেষ সুবিধা দিতেও পারে । প্রথমেই বলে রাখি এই টূর্ণামেন্টে আমার বাজির ঘোড়া নিউজিল্যান্ড । যদিও জানি বিশ্বকাপটা জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে কাটিয়েই তাদের জিততে হবে।
অষ্ট্রেলিয়াঃ গত একযুগে অস্ট্রেলিয়া যা করেছে তাতে করে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে যে কোন কন্ডিশনে খেলা হোক না কেন তাদেরকে আপনার হিসেবের মধ্যে রাখতেই হবে। তাছাড়া খেলাটাও হবে নিজেদের কন্ডিশনে। আর দলটাও কি অসাধারন । এই দলে ওয়ার্নার, ম্যাক্সওয়েল আর স্মিথদের মত বিদ্ধংসী ব্যাটসম্যানরা যেমন আছে তেমনি আছে সুন্দর একটা পেস এট্যাক যার নেতৃত্ব জনসনের মত খুনে বোলারের হাতে । ফকনরারের মত ব্যাটসম্যান এই দলের ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান । অভাব যদি কিছু থেকে তবে সেটা মাইকেল বেভান বা হাসির মত ফিনিশারের । যদিও তাদের দলে উরাধুরা ফিনিশারের অভাব নেই ।কিন্তু এমন ব্যাটসম্যানরা তো আর প্রতিদিন জন্মায় না তবে ফিট মাইকেল ক্লার্ক এই অভাবটা অনায়াসেই পূরন করতে পারবে । অন্য যারাই বিশ্বকাপ জিতুক অস্ট্রেলিয়াকে চেজ করেই তাদেরকে সেটা করতে হবে।
নিউজিল্যান্ডঃ আগেই বলেছি এই বিশ্বকাপে আমার বাজির ঘোড়া নিউজিল্যান্ড ! আমাকে যদি এক ম্যাচ খেলেই কাপ দিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেয়া হত তবে আমি ফাইনাল খেলাতাম অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড কে । নিউজিল্যান্ড বরাবরই আমার কাছে মিনি অলরাউন্ডারের দল ছিল । যেসব খেলোয়ার একটু বোলিং পারে আবার একটু ব্যাটিংও পারে । অনেকেই তাদেরকে সেমি ফাইনালের টিম বলে তাতে অবশ্য এটাই প্রমান হয় যে , এই মিনি অলরাউন্ডাররা বিশ্বকাপের মত লম্বা আসরে কতটা কার্যকর। তবে তাদের এবারের টিমটা ব্যাতিক্রম । এই দলে গাপটিল,ম্যাককালাম, টেলর আর উইলিয়ামসন এর মত স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান যেমন আছে তেমনি আছে ঘন্টায় ১০০ মাইল বেগে বল করার মত স্পেশালিষ্ট বোলারও । সাথে কোরি এন্ডারসন এর মত বিদ্ধংসী অলরাউন্ডার আর “বুড়ো”ভেট্টোরির কথাও ভুলে যাবেন না । তবে জিমি নিশামকে মিস করব । তার বৈচিত্রপূর্ন স্লোয়ার আর লোয়ার অর্ডারে হার্ড হিটিং ব্যাটিংটা অনেক কার্যকারি কিন্তু তাকে বাদ দেয়াটাই আবার প্রমান করে তাদের দলটা কতটা ব্যালান্সড। আগেই বলেছিলাম যারাই জিতুক অস্ট্রেলিয়াকে কাটিয়ে আসতে হবে । সেক্ষেত্রেও নিউজিল্যান্ড এগিয়ে । তাসমান প্রতিপক্ষ হিসেবে বরাবরই তারা অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে । ভুলে যাবেন না কন্ডিশনটা কিন্তু তাদেরও ।

সাউথ আফ্রিকাঃ সাউথ আফ্রিকার নাম আসলেই চোকার্স কথটা আসবেই । তবে আমি এইসবে বিশ্বাস করি না । হ্যাঁ,চাপ টাপ বলে কিছু একটা হয়ত সৃষ্টি হয় কিন্তু সেটাতো সবারই হয় এবং বিশ্বকাপের মত আসরে সব সময়ই থাকবে। তারা হয়ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওভারকাম করতে পারে নাই এই যা !! গত কিছুদিনে তারা যা করছে সেটা যদি অব্যাহত রাখতে পারে তো ফাইনালে তারাও আসতে পারে অনায়াসেই । আমলা , ভিলিয়ার্স, ডু প্লেসিস আর ষ্টেইন শুধুমাত্র এই চারজনেই দক্ষিন আফ্রিকাকে নিয়ে যেতে পারেন ফাইনালে । তবে ফাইনাল যেই খেলুক চোখ রাখুন ডি ভিলিয়ার্স এর উপর । আমি নিশ্চিত ব্যাটসম্যান হিসেবে ডি ভিলিয়ার্স এই বিশ্বকাপটাকে নিজের করে নিতে যাচ্ছেন ।

পাকিস্থানঃ পাকিস্থান সব সময়ই আন প্রেপিক্টেবল টিম । তাই তাদেরকে নিয়ে খুব বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় । তবে নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে খেলেতে পারলে বিশেষ করে পাকিস্থানের ব্যাটিং যদি ক্লিক করে তবে উপমহাদেশের দলগুলোর মধ্যে সেমিফাইনালে খেলার সবচেয়ে ভাল সম্ভাবনা আছে পাকিস্থানের। বোলিং কোনদিনই পাকিস্থানের কোন সমস্যা ছিল না এখনও নয় । আজমল আর হাফিজ না থাকাতে অবশ্য তারা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে । এক আজমল থাকলেই আমি তাদের সম্ভবনাটা ১০% বাড়িয়ে দিতাম । আর হাফিজ না থাকাতে আকমলকে সাথে নিয়ে দলের তিন সিনিয়র ব্যাটসম্যান ইউনিস খান, মিজবাহ আর আফ্রিদিকেই কিছু করতে হবে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্থানের থাকা না থাকার অনেকখানি নির্ভর করছে এই তিনজনের উপরই ।
ভারতঃ ভারতের বর্তমান অবস্থা তেমন ভাল না । কিন্তু গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর খেলাটা ক্রিকেট বলেই তাদেরকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না । ভুলে যাবেন না এই খেলাটাকে আইসিসি না ভারত নিয়ন্ত্রন করে । আর দিনশেষে ক্রিকেট তাদের কাছে ব্যবসা ছাড়া কিছু নয় । টূর্ণামেন্ট থেকে ভারতের বিদায় এর আয় কমিয়ে দিবে অনেকখানিই । ভারতের সবচেয়ে দূর্বলতা তাদের বোলিং কিন্তু যতটা বলা হচ্ছে ততটা বোধহয় নয়, তবে সম্ভাব্য অন্য দলগুলোর তুলনায় দুর্বল তো বটেই । অতীতে গ্রেট সব ব্যাটসম্যানরা তাদের ব্যাটিং দিয়ে এই দূর্বলতা ঢেকে দিয়েছিলেন। এবারও বলা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ আছে ভারতের কিন্তু আমার কাছে এই ব্যাটিং লাইন আপে কোহলি ছাড়া আর কাউকেই চোখে পড়ে না। রাহানে , রোহিত শর্মারা চেষ্টা করছেন মাঝে মাঝে সফলও হচ্ছেন , ধোনি তো নিভু নিভু করে জ্বলছেন। তবে ব্যাটিংয়ে কিছু করতে হলে কোহলিকেই করতে হবে। শচীনের রেকর্ড ভাঙ্গার একমাত্র এই যোগ্যতা সম্পন্ন খেলোয়ারটি বিশ্বকাপের মত আসরে নিজেকে অবশ্যই মেলে ধরতে চাইবেন । একজন গ্রেট ব্যাটসম্যান হওয়ার মত সব যোগ্যতাই তার আছে। তবে কথা সেই আগেরটাই এক কোহলিতে আর কতদূর ।
শ্রীলংকাঃ লংকানদের নিয়ে বেশি কিছু বলব না , শুধু বলব এরা প্রকৃত ফাইটার । সেমি ফাইনালের চতুর্থ দল হতে পারে তারাও । তবে তাদের ভাল করা নির্ভর করবে জয়া,সাঙ্গা,ম্যাথুস আর মালিঙ্গার উপর। নিশ্চিত থাকেন নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে তারা একটুও ছেড়ে কথা বলবে না ।

বাংলাদেশঃ নিজের দেশকে নিয়ে কিছু তো অবশ্যই বলতে হবে। কোনভাবে যদি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় তবে উপরের লেখা গুলো নিয়ে কে চিন্তা করতে যাবে বলুন । তবে আবেগ আর যুক্তি বিপরীতধর্মী তাই যুক্তি বলছে সেটা সম্ভব নয় । তা না হোক আমরা আমাদের সম্ভবনা নিয়ে কথা বলতেই পারি । বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে আমার কিছু বলার নাই , আমার কাছে বাংলাদেশের বোলিং সব সময়ই ভাল নম্বর পেয়ে আসে। এমনকি আমার এটাও মনে হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যদি গড়ে প্রতিটি ম্যাচে ২৭০ -২৮০ রান করে করত তবে এই টি টুয়েন্টির যুগেও যে কোন দলের বিপক্ষে শতকরা ৬০ ভাগ ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা আমাদের বোলারদের আছে, অন্তত নিজেদের কন্ডিশনে । তাই বাংলাদেশের ভাল করা আর না করাটা নির্ভর করছে ব্যাটসম্যানদের উপর । আমাদের সাফল্য একক নৈপূন্য নয় বরং দলীয় সামর্থের উপর আমরা নিভরশীল । তবে আমি এখনও মনে করি তাইজুলের পরিবর্তে রাজ্জাকের টিম থাকা উচিত ছিল । সাকিব , তামীম, মুশফিক তো আছেই, মাহমুদ্দৌলাও ভাল করবে তবে আমি আলাদা করে ব্যাটিংএ এর মামিনুল ও বোলিংয়ে রুবেল এর ভাল করার ব্যাপারে আশাবাদী। সুপার এইট এ যাওয়ার মত কল্পবিলাসী হতে ইচ্ছুক নই , তাই আমার চাওয়া লড়াই করে দেশের সম্মান বজায় রাখা সাথে দুটি জয় ! সেটা হতে পারে যে কোন দলের বিপক্ষেই ।


ইমরান হাশমির মত ক্রিকেটে আমার প্রেডিকশন সত্যি হওয়ার হাড়টা একটু বেশিই । যদিও আমি এইটা অন্য কোন কাজে লাগাই না। তবে গতবার টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপে বলেছিলাম ওয়েষ্ট ইন্ডিজ এর কথা আর দ্যাখেন তারা ক্যামনে যেন চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেল । দেখা যাক এবার নিউজিল্যান্ড আমার মান রাখতে পারে কিনা ????

Monday, November 2, 2015

বিস্ময়কর হামহাম ঝর্না

বেড়ানোটা আমার নেশাই বলা যায় ! ঈদের আগে থেকে একের পর এক ট্যুর মিস হওয়ার পর কিশোর ভাইকে বলেছিলাম ১৫-১৭ তারিখের মধ্যে কিছু করা যায় কিনা ? অবশেষে সিদ্ধান্ত হল সিলেট যাওয়া হবে । হামহাম জলপ্রপাত,রাতারগুল আর তার সাথে বিছনাকান্দি ।বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সায়েদাবাদ থেকে গাড়ির টিকিট কাটা হল।আমাকে যেতে হবে রংপুর থেকে তাই বৃষ্টিতে ভিজে দুপুর ১ টার গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম কিন্তু ড্রাইভার এত আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলেন যে যমুনা সেতু পৌঁছার পর আমার টেনশন শুরু হল সময়মত পৌছাতে পারব তো ? একবার ড্রাইভারকে বলায় উনি আমাকে বললেন “আমি উঠি আপনি এসে গাড়ি চালান ” এরপর আর কোন কথা থাকতে পারে না !!! তাই বসে বসে নিজের চুল ছেড়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না ,এদিকে ট্যুরমেটদের একের পর এক ফোন ! রাত ১০টাতেও যখন উত্তরাতে তখন কিশোর ভাই বললেন- “গাড়ি ১১ টায় , কেমনে কি করবেন বাকিটা আপনার” মহাখালিতে নামার কথা থাকলেও খিলেক্ষেতে নেমে সিএনজিওয়ালারে বললাম,সায়েদাবাদ যেতে কতক্ষন লাগবে ? উনি বললেন - জ্যাম না হলে ১ ঘন্টা । আমি বললাম ১১টায় আমার গাড়ি আছে,হাতে সময় আছে ৪৩ মিনিট সময় মত পৌছাতে পারলে যা ভাড়া চাইবেন তাই দেব । মামা আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যখন সায়েদাবাদে নামিয়ে দিলেন ঘড়িতে তখন কাটাঁয় কাটাঁয় ১১ টা । তার চাহিদা মত ৩০০ টাকা আর বাড়তি একটা ধন্যবাদ দিয়ে দুপা বাড়িয়েই যখন পরিচিত কিছু মুখের দেখা পেলাম তখন অনুভুতিটা ছিল অসাধারন । ভাবলাম ১০০ মিটারে জেতার পর উসাইন বোল্টেরও বোধহয় ঠিক এমনই অনুভতি হয় । অতঃপর বাসে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা, পুরো রাস্তায় চাদেঁর আলো আমাদের কাউকেই ঘুমাতে দিল না ,যদিও মাঝে কিশোর ভাইয়ের হালকা একটু নাক ডাকার শব্দ শোনা গিয়েছিল মাত্র রাত ৪ টায় শ্রীমঙ্গলে নেমে রাস্তাতেই ২ ঘন্টা আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম । সকাল ৬ টায় চললাম আগে থেকেই ঠিক করা হীড বাংলাদেশের একটা গেস্ট হাউসে । সেখানে ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ রেখে ২টা সিএনজিতে আমরা ৮ জন চললাম হামহামের উদ্দেশ্যে , সাথে ছিলেন কিশোর ভাই, আল হাসান ভাই,কবীর ভাই ,শাহেদ ভাই,ডাঃ নাদিয়া আপু, নওরীণ আপু আর ইমু আপু । কলাবন পর্যন্ত সিএনজি তে গিয়ে শুরু হল পায়ে হেঁটে যাত্রা , চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলা কাদাঁ মাখা পিচ্ছিল আর আকাঁবাকা পথে প্রায় ১ ঘন্টা হেটে পাহাড়ের কোলে শেষ গ্রামটায় পৌছেঁ গাইড, প্রয়োজনীয় পানি,শুকনো খাবার আর এক কাদিঁ কলা নিয়ে নিলাম। এর আগেই অবশ্য সবার হাতে স্থানীয় পোলাইনের কাছ থেকে ৫ টাকায় কেনা একটা করে লাঠি শোভা পাচ্ছে ।
 পাহাড়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল শুধু মানুষ আর মানুষ !! ছোট খাট কয়েকটা টিলা পার হলাম ,মাঝে মাঝে গাছ আর বাঁশ দিয়ে তৈরি সাকোঁ গুলো পাড় হতে রীতিমত ট্রাফিক জ্যাম লেগে যাচ্ছিল কিন্তু প্রথম সাকোঁ দুটো পার হতেই কিছু ট্যুরিষ্ট এর জান খারাপ, ট্রাফিক জ্যামের কারনে আমাদের দল টা ইতিমধ্যে ৩ ভাগে ভাগ হয়ে গেছে । শেষে ৩ জনকে রেখে আমি , হাসান ভাই আর শাহেঁদ ভাই রীতিমত দৌড়ে পাহাড়ে উঠে অগ্রবর্তী দল নাদিয়া আর কবীর ভাই এর সাথে জয়েন করলাম। প্রায় ঘন্টা খানেক ট্র্যাকিং করে আমরা যখন মোকাম টিলার পাদদেশে পৌছঁলাম তখন বেশির ভাগ ট্যুরিষ্টই দুর্গম পথ আর ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে বলে ফিরতি পথ ধরেছে । তাদের জন্য কষ্ট হচ্ছিল কে জানে কত দূর থেকে, কত আশা নিয়ে মানুষগুলো এসেছিল হামহাম দেখবে বলে কিন্তু এই বিপদ সঙ্কুল পথ তাদের এ্যাডভেঞ্চারটাতে পানি ঢেলে দিল কিন্তু বিপদ না থাকলে যে কোন এ্যাডভেঞ্চার নাই এইটা তাদের কে বোঝাবে ? বেচারারা হয়ত শখের মাথায় চলে এসেছে ! এক জোড়া নব দম্পতিকে দেখলাম , তাদের যাওয়ার কথা মাধবকুন্ডু সিএনজিওয়ালা ভুলে নিয়ে এসেছে হামহামে আপা শুধু এক পা করে উপরে উঠে আর গজরায় “ যাওয়ার কথা মাধব কুন্ডু আর নিয়ে এল কোন হামহাম না জামজাম ” কিছুক্ষন পর দেখি তারা ফিরে আসছে আর এবার ভাইজান গজরাচ্ছে “ বুঝি না মানুষ কেন এত টাকা খরচ করে এত কষ্ট করে এসব জায়গায় আসে “। এরপর আপা আর ভাইজানের মাঝে কি ঘটছে সেটা একমাত্র উপরওয়ালাই জানে !!! যাইহোক আমাদের টিম তখন ২ ভাগে বিভক্ত সামনে আমরা ৫ জন আর পিছনে কিশোর ভাই, নওরীন আপু আর ইমু আপু । ফিরতি পথের প্রায় সকলকেই আমরা বলছিলাম আমাদের টিমের বাকি ৩ জনকে যেন ফিরে যেতে বলে । কারন আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে,তাদের পক্ষে আর আসা সম্ভব হবে না । প্রায় ৩ ঘন্টা হাটাঁর পর আমরা এমন একটা জায়গায় পৌছলাম যেখানে যতদূর পর্যন্ত চোখ যায় পথটা শুধু নেমেই গেছে ! পুরা খাড়া একটা ট্রেইল , সাপোর্ট নেয়ার মত কিছু নেই আর পুরোটাই কর্দমাক্ত , নিচে পরে গেলে নিশ্চিত মুত্যু না হলেও হাড়হাড্ডি আস্ত থাকবে না । দুরুদুরু বুকে শুরু হল নামা , দুই একজনের ধুপধাপ শব্দ হলেও তারা পিছলে পরেও আটকে গেলেন ।শাহেদ ভাই তো পিচ্ছিল কাদাঁয় পড়ে গিয়ে শাঁ শাঁ করে নেমেন গেলেন আর আমি কতক্ষনে নেমেছি বলতে পারব না কিন্তু অবশেষে দেখলাম দাড়িয়ে আছি খরস্রোতা একটা ঝিড়িতে । সবাই নিজেদের শরীরে খোজাঁখুজি করছে জোঁক ধরেছে কিনা ? আমার ২ টা জোঁক ধরে কখন যে রক্ত চুষে পড়ে গেছে বুঝতে পারি নাই। ডাক্তার নাদিয়ার হাতের এক খাবলা মাংস পিন্ড উল্টে গেছে । ঝিড়ির পানিতে কাদাঁ ধুয়ে মুছে , আমার ব্যাগে থাকা হালকা ঔষধপত্রে ডাক্তার এর ড্রেসিং করে শুরু হল ঝিড়ি পথে যাত্রা । আমরা তখন শব্দ শুনতে পাচ্ছি, ঝর্নার পানি পড়ার শব্দ। সেটা যেন আমাদেরকে চুম্বকের মত আকর্ষন করছে । যতই এগুতে থাকলাম পানির গর্জন ততই বাড়তে থাকল । প্রায় আধ ঘন্টার মত কখনও হাটু সমান আবার কখনও বুক সমান পানি দিয়ে হেটেঁ একটা বাকে পৌছলাম , বাকঁ পাড় হতেই সেই মূহূর্ত !! আহা !! এটার জন্যই এত কষ্ট,এতদূর থেকে আসা । আমি প্রায় ৫ মিনিট পুরো ঠায় হয়ে দাড়িয়ে থাকলাম । সম্বিত ফিরতেই ইয়াহু বলে চিৎকার । ঝর্না এত সুন্দর আর বড় হতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিল না । ঝর্নায় তখন টুরিষ্ট প্রায় নেই,আমরা গোসল সারতে সারতে দেখি অল্প যে কজন ছিলেন তারাও ফিরে গেলেন । হাসান ভাই তারা দিচ্ছিলেন কিন্তু আমাদের লাফালাফি শেষ হচ্ছিল না । আমার সবেধন নীলমনি ক্যামেরায় ছবি টবি তুলে ফেরার আগে চা খেতে বেসলাম । হ্যাঁ সেই সূদুর হামহামেও চা পাওয়া যায় , মানুষ ব্যবসাটা ভালই বোঝে । আমাদের টিমের সবার গায়েই একই রকম টিশার্ট ছিল । চা খেতে খেতে স্থানীয় একজন বলল, আমাদের দলের একজন মেয়ে একাই আসতেছে তাকে হেল্প করছে তাদেরই স্থানীয় অপর একজন ভাই , টিশার্ট দেখেই সে বুঝতে পেরেছে মেয়েটা আমাদের দলের।। কথাটা শুনে আমরা সবাই স্থম্ভিত হয়ে গেলাম ।বর্ননা শুনে বোঝা গেল সেটা নওরীন আপু । কিছুক্ষন পর নওরীন আপুকে দেখে সবার তো চোখ কপালে বিশেষ করে হাসান ভাই তো পুরাই থ । বেচারা চা খেতে পর্যন্ত ভুলে গেলেন !! আমি চা নিতে বলায় আমারে রীতিমত একখান ঝাড়ি দিলেন । নওরীন আপুরে কিছুক্ষন সময় দেয়া হল গোসলের জন্য , এই সুযোগে হাসান ভাই ছাড়া আমরাও আবার নেমে পড়লাম। আমি ওনাকে বললাম এতদূর কষ্ট করে আসলেন আগে ৫ মিনিট ঝর্নাটার দিকে চুপচাপ দাড়িয়ে থেকে ফিল করেন । ভাল লাগবে । ছবিটবি তুলে ঘোরলাগা একটা অনুভুতি নিয়ে শুরু হল ফিরতি পথে যাত্রা, আধ ঘন্টা হেটে মোকাম টিলাম গোড়ায় পৌছলাম কিন্তু কে জানত এইবারের ট্রিপটা বিষ্ময়ের ঝাপি খুলে বসেছে । মোকাম টিলার গোড়ায় আসতেই চোখে পড়ল টিমের বাকি ২ জন মেম্বারও হাজির । ঝর্নায় তখন আর কেউ নেই,সবাই তখন ফিরে গেছে কিন্তু এতকষ্ট করে এতদূর আসার পর মাত্র ৩০ মিনিট দুরত্বের জিনিসটা না দেখে ফিরে যাওয়া একটা অন্যায়ই বটে তাই আমরা আবারও ২ ভাগে ভাগ হয়ে গেলাম ।সিদ্ধান্ত হল হাসান ভাই নাদিয়া আর নওরীন আপুরে নিয়ে উপরে উঠবে আর আমি ,শাহেঁদ ভাই ও কবীর ভাই কিশোর ভাইদের সাথে নিয়ে আবারও ঝর্নায় ফিরে যাব । আমাদের সাথে থাকল ২ গাইড আর কিশোর ভাইদেরকে সাহায্য করা স্থানীয় ২জন উদয় ভাই আর জলিল ভাই । আবারও ঝর্নায় ফিরে কিছুক্ষন সময় অতিবাহিত করে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম , বেশিক্ষন থাকার উপায় ছিল না কারন ততক্ষনে অন্ধকার নামা প্রায় শুরু হয়ে গেছে । ফেরার পথে বুঝতে পারলাম যে,কখন যেন আমার হাটুটা পাথরে বারি খেয়েছে তাই অল্প বিস্তর ব্যাথা করা শুরু হয়েছে । ব্যাথা নিয়েই ফিরে আসা শুরু করলাম। ঝিরিপথ শেষে মোকাম টিলার গোড়ায় পৌছায় পর শুরু হল উপরে উঠা। সামনে আমি,কবীর ভাই আর যাদব ভাই , মাঝে শাহেদঁ ভাই আর জলিল ভাই । আর শেষে আমাদের ২ গাইড ও ইমু আপু এবং সবার শেষে কিশোর ভাই । সারাদিন মানুষের পদচারনায় কাদাঁ হয়ে উঠেছে থকথকে পিচ্ছিল তাই কখনও সাইড দিয়ে নতুন ট্রেইল বানিয়ে আবার কখনও গাইডের হাতে থাকা দাঁ দিয়ে নতুন গর্ত করে আমাদের নামতে হচ্ছিল । কিছুদুর আসার পর শুরু হল আর এক সমস্যা অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না ।ভাগ্যিস আমি যাওয়ার সময় ব্যাগে টর্চ টা নিয়ে ছিলাম, সেটাই পিছনে কিশোর ভাইয়ের হাতে দিয়ে দিলাম আর সামনে আমরা ৩ জন প্রায়ান্ধকারে নামতে থাকলাম কিন্তু এভাবে কিছুদুর চলার পর অন্ধকারের জন্য আর এগুনো সম্ভব হল না । ব্যাগ থেকে কবীর ভাইয়ের ফ্ল্যাশওয়ালা মোবাইলটা বের হল । আমার হাটুর ব্যথাও তখন চরমে, ব্যাগে থাকা পেইন কিলার বাম লাগিয়ে নিলাম আর সাথে ঝিরির পানি দিয়ে একটা পেইন কিলারও গিলে ফেললাম । আবার শুরু হল নতুন করে পথ চলা , নামছি তো নামছিই , এর যেন কোন শেষ নেই । মাঝে মাঝে নিজেদের মাঝে হাক ডাক করে আমরা নিজেরাই সাহস নিচ্ছি । কিন্তু শুরুর সেই ব্রীজের যেন কোন দেখা নেই । চলার গতি হয়ে পড়েছে অত্যন্ত স্লো , কবীর ভাই তার মোবাইলের ফ্ল্যাশ দেখালে যাদব ভাই ২ পা এগিয়ে থেমে পড়েন , এরপর কবীর ভাই নিজে ২ পা নামেন তাপর আমাকে লাইট দেখালে আমি ২ পা নেমে থেমে পড়ি । এরপর আবার শুরু হয় এই থামা আর চলার চক্রাকার বিরাম হীন পথচলা । চলার পথেই আমাদের নিজেদের মাঝে চিৎকার করে কথোপকথন ছাড়াও পিছনে ধুপধাপ শব্দ হচ্ছিল । এই শব্দগুলোর মূল উৎস ছিলেন শাহেদ ভাই , একদিনে পড়ার কোন রেকর্ড থাকলে সেটা নিশ্চিত শাহেঁদ ভাইয়ের হয়ে যেত হাতে বিশাল একখান দাঁ নিয়ে তিনি যেভাবে পড়ছিলেন সেটা রিতীমত বিপজ্জনকও ছিল ।

ইতিমধ্যে আমার পা সোজা হয়ে গেছে মানে বাকানোঁ যাচ্ছিল না, লাঠি হাতে বলা চলে একপায়ে নেমে যাচ্ছি । কিন্তু কাউকে বলতেও পারছিলাম না কারন সবার অবস্থাই ছিল শোচনীয় । একবার অন্ধকারেই বুঝলাম কব্জির কাছে একটা জোঁক নড়াচরা করছে । হাটতে হাটতেই সেটাকে টেনে ছাড়ালাম । তবে জোঁকের চাইতেও হাতি পোকার কামড়টা ছিল অসহ্য । গায়ে পড়েই ইয়া মোটা একটা সূচঁ যেন ফুটিয়ে দিত আর কিছুক্ষনের মধ্যেই জায়গাটা ফুলে লাল । এতকিছুর সাথে ঝাকঁ ঝাকঁ মশার কামড় ছিল একদম ফ্রি । প্রায় ৩ ঘন্টা চলার পর অবশেষে আমরা সেই প্রথম ব্রীজটার কাছে পৌছলাম কিন্তু বিধিবাম । কে যেন সাকোঁটা ভেঙ্গে রেখে গেছে , বাধ্য হয়ে আবার ও টিলা বেয়ে উপরে উঠে নতুন একটা রাস্তা দিয়ে আসতে হল। ইতিমধ্যে গ্রাম থেকে আর একজন গাইড মশাল নিয়ে আমাদের খুজঁতে খুজঁতে হাজির ,তিনি সামনে থেকে আমাদের কে নিয়ে গ্রামে পৌছলেন ।
সবগুলো ফোনই আমার ব্যাগে ছিল ,সেখানে পৌছে দেখি প্রতিটা ফোনেই অসংখ্য মিসকল , দেখা হল টিমের বাকি ৩ জনের সাথে । সেখানে কাদাঁমাটি কিছুটা পরিস্কার করে আরও প্রায় ঘন্টাখানেক হেটেঁ সিএনজির কাছে পৌছলাম। তারপর রাত প্রায় ১১ টার দিকে রেস্ট হাইসে পৌছে শুরু আর একবার খোঁজ দি সার্চ জোঁকের জন্য আর একদফা তল্লাশি । তারপর গ্রোগাসে ভাত, সবজি আর মুরগী গিলে , রাত ২ টায় দিলাম একটা ঘুম । এত কষ্টের ট্রিপটার সবচেয়ে বড় সার্থকতা যে , সেদিনের প্রায় শ দেড়েক ট্যুরিষ্টের মধ্যে শুধু আমাদের টিমের ৮ জনই হামহামে যেতে পেরেছিল আর বাকি সবাই ফেরত এসেছিল । সেদিন অনেকের সাহায্যই আমাদেরকে নিতে হয়েছে তবে অপরিচিত সেই ছেলেদুটো আমাদের যে উপকার করেছে তা ভোলার নয় । এদের দুজনই এখন আমার ফেসবুক বন্ধু , এই লেখার মাধ্যমে তাই তাদেরকে আরও একবার ধন্যবাদ দিচ্ছি । অসাধারন একটা ট্রিপ ছিল , ছিল কষ্ট আর অনেক অনেক ভাল লাগা কিন্তু এত ভাললাগার মাঝেও কিছু খারাপ লাগাও ছিল । চলতি পথের ট্রেইলটাতে চোখে পড়েছে অস্যংখ বর্জ্য। চিপস, পানির বোতল, ক্যান এমনকি বিরানীর প্যাকেটও । যারা বিরানী খেতে চান তাদের বলব ভাই এত কষ্ট করে হামহামে গিয়ে বিরানী খাওয়ার কি দরকার সেটা খেতে হলে অভিজাত কোন রেস্টুরেন্টে বসে খান আর যদিওবা সাথে করে বিরানীর প্যাকেটটা নিয়েই গেছেন খাওয়ার পর প্যাকেটটা আনতেও নিশ্চই কষ্ট হওয়ার কথা নয় । মূল কথা যারাই যান দয়া করে আশেপাশের পরিবেশের কোন ক্ষতি করবেন না বা কোন বর্জ্য পদার্থ সেখানে ফেলে আসবেন না ।
কিছু কথাঃ যদি কেউ হামহাম যেতে চান আর এ্যাডভেঞ্জার  প্রিয় হন তবে বর্ষাকালেই তার যাওয়া উচিত, তবে অবশ্যই সকাল সকাল বের হবেন আর বিকাল ৩ টার মধ্যে ঝর্না থেকে ফিরতি পথ ধরার চেষ্টা করবেন ।
যথেষ্ঠ শারিরীক আর মানসিক ভাবে ফিট না হলে তার যাওয়া উচিত নয় ।
সবচেয়ে বড় কথা পরিবেশের কোন ক্ষতি করা যাবে না, মনে রাখবেন যতটুকু ফেরত আনতে পারবেন ঠিক ততটুকুই আপনার নিয়ে যাওয়া উচিত ।







Wednesday, February 12, 2014

স্বর্গের নাম বান্দবন আর তার রাজধানী তিন্দু

কয়েকদিন আগে ঘুরে আসলাম অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই ছোট্ট দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বান্দরবন থেকে । বাংলার ইবনে ববুতা Rakib Kishore এর একের পর এক লোভ জাগানো ছবি দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে ৫ ফেব্রয়ারী রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু,পরদিন ৬ তারিখ রাত ১১ টায় ঢাকা থেকে উঠলাম বান্দরবনের গাড়িতে ! চেনা অচেনা মিলে আমরা মোট ৯ জন ! ৭ তারিখে সকালে গিয়ে বান্দরবন পৌছেঁ রেস্তোরা তাজিংডং এ সকালের নাস্তা সেরে উঠলাম হোটেল হিলটপে ,দেরি না করে ফ্রেস হয়ে রওনা দিলাম মেঘলায় । পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে আমাদের সাথে পিকনিকের জন্য যোগ দিল "গরীবগ্রুপের" চট্রগ্রামের বন্ধুরা । সবমিলে আমরা তখন ৩৪ জনের এক বিশাল পরিবার, মেঘলা থেকে স্বর্ন মন্দির হয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ফিরে আসলাম হোটেল হিলটপে ।স্বর্ন মন্দিরটা সত্যিই সুন্দর একটা দেখার জিনিস বটে ।

দুপুরের খাবার খেয়েই চান্দের গাড়িতে চরে চললাম নীলাচলে,নীলাচলটা ভাল লেগেছে কিন্তু আজকাল মানুষ মনে হয় বড্ড বেশি নীলাচলে ঘোরাঘুরির মাধ্যমেই পিকনিক শেষ করে চট্রগ্রামের বন্ধুদের বিদায় দিয়ে আমরা ফিরে আসলাম হোটেলে । কেন জানি সবারই মন একটু খারাপ ছিল হয়ত সারাদিন আর রাতের জার্নির ধকল কিন্তু খাওয়ার পর সাথে যদি থাকে Zonayed Azim Chowdhury এর মত সুকন্ঠের কোন গায়ক তো মন খারাপ আর কতক্ষন ? দোতলার বেলকনিতে গান আর জমপেশ আড্ডায় সবার মন ভাল হয়ে গেল ! এই ফাকেঁ বলে রাখি জুনায়েদ ছেলেটা শুধু ভাল গায় না তার আরও অনেক গুন আছে তবে আমার মনে হয় একটা লাইফ জ্যাকেটকে জলে স্থলে কিভাবে,কত প্রকারে ব্যবহার করা সম্ভব সেটা দুনিয়াতে তার চাইতে ভাল আর কেউ জানে না রাতের ঘুমের সাথে সাথে সকল ক্লান্তি ঝেরে পরদিন সকালেই চান্দের গাড়ি ভাড়া করে ছুটলাম থানচি, উদ্দেশ্য বান্দরবন নামক স্বর্গের রাজধানী তিন্দু !! পথে ঢুঁ মারলাম নীলগিরিতে । সেখানে আমরা অনেক মজা করেছি বিশেষ করে ছবি তুলে





এরপর সোজা থানচির উদ্দেশ্যে রওনা এর মাঝে চিম্বুকে সেরে নিয়েছি হালকা নাস্তা ।

চান্দের গাড়ি ছাড়াও আপনি ইচ্ছা করলে বাসেও যেতে পারেন থানচি তবে খুব বেশি মজা পাবেন না।আবার চান্দের গাড়িতে যাওয়ারও ধরন আছে, ইচ্ছা করলে আরাম করে বসে অপর সীটে বসা যাত্রীর মুখ দেখতে দেখতে যেতে পারেন আবার পিছনে দাড়িয়ে পাহাড়ের বুনো গন্ধ আর খোলা হাওয়া খেতে খেতেও যেতে পারেন, আমি পরেরটাকেই পছন্দ করেছি ! আপনারটা আপনার !! থানচিতে নেমেই কিশোর ভাইদের পরিচিত হোটেলে দুপুরের খাবারটা সেরে নিলাম ।এর ফাকেঁই হাসান ভাই নৌকা আর গাইড ম্যানেজ করে ফেললেন, করে ফেললেন পরের ২ দিনের জন্য কিছু কেনাকাটাও । Hasan ভাই সম্পর্কে বলব তার মত বড় ভাই ট্রিপে থাকলে আপনি উপভোগ করার জন্য যথেষ্ঠ সময় পাবেন, হাসান ভাই থাকলে খাবার বা অন্য কোন ব্যবস্থাপনার জন্য আপনার কোন টেনশন থাকবে না । থানচির পরে আর কোন গাড়ি নেই তাই যাত্রা এবার নৌকায়,গেলে বুঝবেন জল আর পাথরের ফাকেঁ স্রোতের বিরুদ্ধে যেতে যেতে চারপাশের দৃশ্য মনটা সত্যিই উদাস করে দেবে আর ততক্ষনে ভুলে যাবেন মেঘলা,নীলাচল আর নীলগিরিতে আপনি কি দেখেছেন ? চারপাশের দৃশ্য আপনাকে অবাক করে ভাবাবে পৃথিবীর সবচাইতে সবুজের দেশ আমার বাংলাদেশ এত সুন্দর !!!পাথরকে ফাকিঁ দিয়ে নৌকা চলেছে তিন্দুর উদ্দেশ্যে পাথরের সাথে ঘষাও খাচ্ছে আবার মাঝে মাঝে আটকেও যাচ্ছে ,তখন পানিতে নেমে নৌকা ঠেলতে হচ্ছে কিন্তু সেটাও যেন আর এক আনন্দ !!!



 তিন্দুতে নেমেই উঠলাম হোটেল আবাসিক এ ওয়ানে ! তিনতলা হোটেলে আমরা ২ তলায় ৩ টা আর ৩ তলায় ১ টা সুই্যট নিলাম, পুরা হোটেলই কাঠের তৈরি চৌকি থাকলেও মেঝেতে ঘুমানোতেই মজা বেশি ইতিমধ্যে পাশের দোকানেই খাবার দাবারে আয়োজন সেরে ফেলেছেন হাসান ভাই আর কিশোর ভাই । রাতের খাবার তৈরি হতে হতে চলল বারবিকিউ এর প্রস্তুতি ! এখানে হাসান ভাই বস আমি শুধু তার সহযোগী কাজের ফাকেঁ ফাকেঁই চলছে SSweet Pain ওরফে আরমান ভাইয়ের খুনসুটি তার সম্পর্কে বলব আরমান ভাই সাথে থাকলে আপনার যে কোন ট্রিপ ভাল লাগতে বাধ্য ! যে কোন কিছু নিয়েই মজা করার অসাধারন একটা ক্ষমতা আছে তার ।তিনি সাথে থাকলে আপনি চাইলেও মন খারাপ করে থাকতে পারবেন না । রাতের খাবার সেরে আবার ফিরে আসলাম বারবিকিউ এর স্থানে। ইতিমধ্যে আমাদের গাইড সেলিম সাহেব আগুনের কয়লা তৈরি করে ফেলেছেন । আড্ডার সাথে সাথে চলল বারবিকিউ তৈরি ।
অসাধারন একটা পরিবেশ !! আপনার মনে হতে বাধ্য চাদেঁর আলোয় সাঙ্গুর তীরে পাথরের উপর বসে বারবিকিউ ‍চিবুতে না পারলে সত্যি জীবনটাই বৃথা !! বারবিকিউ পার্টি সেরে হোটেলে ফিরে রাতের মত ক্ষান্তি ।পরদিন সকালে উঠে নাস্তা সেরে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাত্রা করলাম রাজা পাথরের উদ্দেশ্যে,একদল যাবে নৌকায় আর একদল ট্রেকিং করে । ট্রেকারদের দলই ভারী হল আমার মোট ৫ জন্য ট্রেকিং এ আর ৪ জন নৌকায় । পাহাড়,পাথর আর নদীর খরস্রোত পেরিয়ে চলেছি তিন্দুর গভীরে। যাত্রপথটা যতটা কঠিন ততটাই মজার !! যাত্রাপথেই আমরা মজা করে খেলাম পাহাড়ি মিষ্টিআলু ,বাদাম আর কলা,নৌকার বন্ধুদের জন্যও সাথে করে নিতে ভুললাম না ।

 রাজা পাথরের পাশে গিয়ে মুখ হাঁ হয়ে গেল প্রকৃতি এত সুন্দর হতে পারে সেখানে সাঙ্গুর ছলছল পানিতে গোসল সেরে সকল ক্লান্তি ঝেরে পাহাড়ি এক পরিবারের আয়োজনে দুপুরের খাবারটা সেরে ফেললাম,চারপাশের পরিবেশ আপনাকে এতটাই আভিভুত করে দিবে যে পাহাড়িদের হাতের রান্নাটাও মনে হবে কোন ফাইভ ষ্টার এর খাবার । খাবার সেরে প্রকৃতির কোলে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে যাত্রা এবার ফিরতি পথে ,স্রোতের অনুকুলে তাই ৯ জন উঠলেও ফিরতে কোন সমস্যা হচ্ছিল না । ফেরার পথে নদীর দুই তীরের উচুঁ উচূঁ পাহাড় আর চারপাশের নিশ্চুপ পরিবেশ আপনাকে দিবে অন্য রকম একটা ভাল লাগা !! নিঃশব্দ পরিবেশে চারপাশের বড় বড় পাথর ,পাহাড় আর সাঙ্গুর তীরের সবুজের মাঝে চলতে চলতে হঠাৎ অচেনা কোন পাখির ডাক কি যে এক মনভোলানো অনুভুতি ! না গেলে সেটা বোঝা সম্ভব নয় ।



সন্ধ্যার আগেই ফিরলাম তিন্দুর সেই হোটেলে । রাত হল ,রাতের খাওয়া হল কিন্তু ঘুমানো আর হয় না ,মনের মধ্যে লেগে আছে শুধু সারাদিনের ভাললাগা !! যান্ত্রিকতার যুগে নেটওয়ার্ক বিহীন একটা জায়গায় এতটা সময় পার করলেও একবারও মনে পড়েনি ফেলে যাওয়া অতি চেনা পরিবেশের কথা। তিন্দুর প্রকৃতি এমনই যে,সে তার সৌন্দর্য দিয়ে আপনাকে ভুলিয়ে দিবে জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট গুলোকে,ফিরিয়ে দিবে আপনার শৈশব,ভালবাসতে শেখাবে প্রকৃতিকে আর আপনি নতুন করে আবিস্কার করবেন নিজেকে,নিজের দেশকে । পরদিন ১১ টায় ২ টা নৌকা করে ফিরতি যাত্রায় বান্দরবন ফিরলাম ৩ টা দিকে। ঢাকার গাড়ি রাত ৯.২০ এ তাই সময়টা নীলাচলে কাটানোর সিদ্ধান্ত হল আবার চান্দের গাড়িতে করে নীলাচল পৌছঁতে পৌছঁতে সন্ধ্যা ৬ টা। লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে নীর্জন পরিবেশে কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা ৯ জন আর কেয়ারটেকার ছাড়া নীলাচল একেবারে ফাকাঁ! এবারে আবিস্কার করলাম নীলাচল এর আর এক রুপ ! হাজার ফুট উপরে ঠান্ডা হিম বাতাস মনটাকেও হিম করে দেয়,আনমনা মনে উকিঁ দেয় অতীত আর ভবিষৎ এর নানা ছবি আর নীচে বান্দরবন শহরের বাতিগুলো যেন উদোম হাওয়ায় দেখা স্বপ্নটাকে দেয় আরও পরিপূর্নতা । ছেড়ে আসতে মন চাইছিলনা কারই কিন্তু তারপরও প্রকৃতি ছেড়ে আসতে হল যান্ত্রিক এই জীবনে !! ফিরে এলাম ঢাকা হয়ে লালমনিরহাটে। অসাধারন এই ট্রিপটার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ‍এই ট্রিপের বাকি ৮ জনকেই এমন সুন্দর কিছু সময় দেয়ার জন্য বিশেষ করে Fahad ভাই্ আর Bappyতো অন্যরকম আর শাহেদ খানেঁর মত ওয়াও ছাড়া ট্রিপটা এত জমতো না কোনমতেই !!


প্রকৃতি আর বান্দরবনের প্রতি আমার ভাললাগাটা আগে থেকেই ছিল কিন্তু এখন সেটা পুরাই প্রেমে পরিনত হয়ে গেল ....

Tuesday, December 10, 2013

গল্প একটি স্বপ্ন নিয়ে

কোনকিছু না ভেবেই গত ১৩ নভেম্বর হঠাৎ করেই এই গল্পটা লেখা শুরু করেছিলাম । এরপরে আর হাঁত দেয়া হয়নি । ভাবছিলাম আমার অনেক চিন্তা আর প্লটের মত এই জিনিসটাও বোধ হয় কালের গভীরে হারিয়ে যাবে । কিন্তু আজ হটাৎ করেই মনে হল, গল্পের শেষটা বোধহয় আমি পেয়ে গেছি !! আর তাই দেরি না করে শেষ করে ফেললাম ।

::::  ::::
            গতকাল রাতেও বরাবরের মতই ঘুমাতে দেরি হয়েছে রাজীবের ! সেই সাথে শরীরটাও ভাল না !! ফলাফল সকালে ঘুম থেকে উঠতে আজ দেরি হয়েছে । কেন জানি না আজকের দিনের শুরুটা অন্যরকম লাগছে তার কাছে । ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়ল গতকাল রাতের স্বপ্নটার কথা , আজিব তো !!! এই স্বপ্ন তো তার দেখার কথা নয় ,কতদিন...... কতদিন পর মনে পড়ল এইসব কথা । আসলে বাস্তব আর স্বপ্নের মাঝে অনেক পার্থক্য আর তাই স্বপ্ন দেখা সে ছেড়েই দিয়েছে, কিন্তু এ তো এক অনাকাঙ্খিত স্বপ্ন !!! এই সব ভাবতে ভাবতেই নাস্তাটা সে সেরে ফেলল..নাহ ! দিনটা অন্যরকম লাগলেও নাস্তাটা আজও বরাবরের মতই, কোন “ডিফারেন্স’ নেই ! আসলে তার একটা পরিবর্তন দরকার সত্যিই খুব খুব করে দরকার । নাস্তা করার পর বাসায় থাকায় আর কোন মানে হয় না । বের হওয়ার সময় মায়ের উপদেশগুলো আবছা আবছা কানে আসলেও তার মাথায় তখন বন্ধুদের চিন্তা , রহমতের চায়ের দোকানে তারা তার জন্য অপেক্ষা করছে ....

রাস্তার মোড় আসতেই প্রথম রাহাত,সুমন আর মিলনের সাথে দেখা ।
সুমনই প্রথম কথা বলল, কি দোস্ত ! তোকে আজ অন্যরকম লাগছে !!
আরে নাহ !! এক রাতেই আমি কি বদলে গেলাম নাকি ? উত্তর করলেও রাজীবের আবারও গতরাতের স্বপ্নটার কথা মনে পড়ল !!
      চারজন মিলে একসাথে বসে রহমতের আদা চাঁ আর দিনের প্রথম ধুম্র শলাকাতে আগুন দিয়ে শুরু হল গতানুগতিক আড্ডা ! কিন্তু তাদের কোন কথাই রাজীবের কানে প্রবেশ করছে না । সিগারেটের ধোঁয়াগুলোর মতই একটার পর একটা চিন্তা তার মাথায় পাক খেতে শুরু করেছে, পার্থক্য শুধূ ধোঁয়াগুলো পাক খেতে খেতে উড়ে গেলেও চিন্তাগুলো তার মাথাতেই জট পাকাচ্ছে ।

এমন সময় নাহিদ এসে দোকানে ঢুকেই চায়ের জন্য একটা হাকঁ ছাড়ল ।

আসলে সকাল বেলা রহমত এর লেবু চাঁ ছাড়া তাদের দিনের শুরুটা চিন্তাও করা যায় না। রহমতের লেবু চায়ের সাথে একটা গোল্ডলিফ না হলে দিনটা  যেন শুরু হয়েছে বলে মনে হয় না । 
ইতিমধ্যে আড্ডাটা জমে উঠেছে ।
আলোচনার বিষয়বস্থু বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ । সবাই আফগানিস্থান আফগানিস্থান  করে চিল্লাছে ! রাজীব এতক্ষন চুপচাপ থাকলেও হঠাৎ বলে উঠল
- আফগানিস্থান নিয়ে এত কথা বলার কি আছে ? এত এত কথায় চাপটা বাড়ছে আর শেষ পর্যন্ত চাপটাই না আমাদের জন্য কাল হয়ে যায় ।
 সুমন বলল, ঠিক বলেছিস দোস্ত । এটা নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই নিজের খেলা খেলতে পারলে আমরা এমনিতেই জিতব।
  হঠাৎ নাহিদ রাজীবের কথায় টপিকটা চেঞ্জ হয়ে গেল । সে তার  দিকে তাকিয়েই বলে উঠল “কিরে দোস্ত ! আজ তোরে এমন বিষন্ন লাগছে কেন ?
রাহাত বলল, পুরান কথা নাকি বস ?
মিলনটাও বরাবরের মত টিপ্পনি কাটতে ছাড়ল না “ শালা মাইনষে ১০টা ১২ টা প্রেম করে আর তুই আছস ওই একখান নিয়া, ডিজিটাল যুগের মানুষ হইয়াও শালা এই ক্ষেত্রে তুই এখনও এনালগ “
নাহিদ শান্তনা দেয় “ পুরান কথা ভেবে কি লাভ দোস্ত !
 “হ পুরানই তো ” রাজীব ভাবে । আহা কি সব দিন ছিল তখন,এখনও ভাবতেই রক্তে এড্রেনালিন এর প্রবাহ বেড়ে যায়।    
  টগবগিয়ে উঠে রক্ত ।
  কিন্তু কিছু ভুল আর … নাহ ভাবতে ইচ্ছা করে না আর । কিন্তু তারপরও এই এতদিন পর কেন এই স্বপ্ন ? মাঝে মাঝে মনে খোচাঁ দিলেও সে তো সবকিছু প্রায় ভুলতেই বসেছিল ।
এইসব নিয়া অতীতে বন্ধুদের অনেক খোচাঁ সহ্য করতে হয়েছে তাই সেসব আর বলতে চায় না । এমনকি অনেক বন্ধুর সাথে এ নিয়ে তার সম্পর্কটাও প্রায় নষ্ট হতে বসেছিল ।
আবারও সবাই ক্রিকেটের আড্ডায় মত্ত ।
কাউকে কিছু না বলেই হঠাৎ বের হয়ে আসল  রাজীব, পিছন থেকে সুমন ডাকলেও ,কোন জবাব না দিয়েই উদ্দেশ্যহীন ভাবে  হাটঁতে থাকল সে ।
  পিছন থেকে ওরা চারজন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেও  রাজীবের মাথায় তখন শুধু রাতের সেই স্বপ্নটা !!
উদ্দেশ্যহীনভাবে বের হয়ে আসলেও ঠিক কিভাবে যে রাজীব হুদা মিয়ার পুকুরঘাটে পৌছাঁল বলতে পারবে না ।
এই পুকুরঘাটটা তার খুব পছন্দ ।
চারপাশে অনেক গাছপালা আর নির্জন পরিবেশ হওয়াতে এখানে এলে প্রকৃতিকে উপভোগ করা যায় । তার মন খারাপ হলেই সে এখানে চলে আসে ।
দুপুরের কাঠফাটাঁ রোদ্দুরে আশপাশটা জ্বলছে বলে মনে হলেও  প্রকৃতি তার ছায়াঁ দিয়ে পুকুর পারটিকে শান্ত আর ঠান্ডা করে রেখেছে । রাজীবের মনে হল পুকুর পাড়ের সবুজ ঘাসগুলো যেন তার বসার জন্যেই গালিচা মত হয়ে আছে ।

বসতে বসতে রাজীব ভাবে এবার অন্তত বিষয়টা নিয়ে একটু চিন্তা করা যাবে ।ব্যাপারটা এখনও তার  মাথাতেই আসছে না।
 এও কি সম্ভব ! এটা কি কখনও হতে পারে ?
এমনিতে সে স্বপ্ন খুব একটা দেখে না, অনেক সময়  জোর করে স্বপ্ন দেখার চেষ্টাও করেছে । যেসব কথা মনে পড়লে এখনও তার হাসিঁ পায় । কলেজে থাকতে বন্ধুরা কত কিছু নিয়েই না স্বপ্ন দেখত অথচ সে চেষ্টা করেও একটা স্বপ্ন দেখতে পারত না ।

সেই সময় তার প্রেমটাও ছিল উত্তাল !
ও তাকে প্রায় প্রায় প্রশ্ন করত , এই তুমি আমাকে নিয়ে কি কোন স্বপ্ন দেখনা ?
তার বান্ধবীর “সে” নাকি অনেক সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখে তার বান্ধবীকে শোনাত আর তার বান্ধবী আবার তাকে শোনাত । এখন তার বান্ধবীকে শোনানোর জন্য হলেও তাকে স্বপ্ন দেখতেই হবে ।
রাজীব ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান,বাবার পাঠানো হিসেবের টাকায় কোনমতে মাস চলে যায় তথাপি তার কাছে স্বপ্ন দেখার চাইতেও প্রেমিকা  আর তার বান্ধবীকে হোটেলে একবেলা খাওয়ানোও তার জন্য ছিল অনেক সহজ কাজ । কিন্তু প্রেমিকার একদাবী তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই হবে ।
এসব ভাবতে ভাবতে হাসিঁ পায় রাজীবের !
প্রেয়সীর চাপে স্বপ্ন দেখার জন্য কি প্রানান্ত চেষ্টাটাই না সে সময় করেছে ।

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন  জিনিসটা সত্যি রাজীবের কাছে অবাক করার একটা বিষয় এবং কিছুটা রহস্যজনকও । সে একেবারে স্বপ্ন দেখে না তা নয় কিন্তু আজ পর্যন্ত যে কবার দেখেছে পরে হুবুহু সেটাই বাস্তবে পরিনত হয়েছে ।
সমস্যাটা সেখানেই !
গতরাতে সে যা দেখেছে সেটা কি বাস্তবে সম্ভব ?
আবার ভাবে কেন সম্ভব নয় ? মন থেকে সকল দোদুল্যতাটাকে ঝেরে ফেলে রাজীব । অবশ্যই সম্ভব !!
সে যা স্বপ্নে দেখে বাস্তবে তাই ঘটে এটাই রাজীবরে স্বপ্নের স্পেশালিটি । কজনই বা পারে তার মত স্বপ্ন দেখতে ।
এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠে রাজীবের ।
 মায়ের ফোন ।
 উঠে দ্বাড়ায় রাজীব ,কখন যে বেলাটা গড়িয়ে গেছে টেরপায় নি,মা ফোন করাতেই মনে পড়ল বাসায় ফিরতে হবে ।

 পড়ন্ত বিকেলে বাসার উদ্দেশ্যে হাটঁতে থাকে রাজীব ,আবারও মনে  পড়ে স্বপ্নটার কথা । সেই জায়গা যেখানে প্রায় এক  বছর আগে গিয়েছিল সে, হাজার হাজার নাম না জানা অচেনা মানুষের কাধে কাঁধ মিলিয়ে গলা ফাটিঁয়ে চিৎকার করেছিল । স্লোগান দিয়েছিল !!!
  সেই জায়গায় আবারও হাজার হাজার মানুষের সাথে দাড়িঁয়ে আছে সে । সামনে ফাসিঁর মঞ্চ । আজ ফাসিঁ হবে , বিশেষ একজনের ফাসিঁ !!!

Friday, August 30, 2013

আবারও যুদ্ধ নামক অভিসাপের সম্মুখীন মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ব্যাপি আবারও বেজে উঠতে চলেছে যুদ্ধের দামামা সেই সাথে সৃষ্টি লগ্ন থেকেই জটিল সমীকরনের মুখে থাকা মধ্যপ্রাচ্য আবারও অস্খিতিশীল এক পরিস্থিতির হুমকির সম্মুখিন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে সিরিয়ায় আক্রমন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে আমেরিকা তার পশ্চিমা দোসররা সত্যি ভাবতে অবাক লাগে , মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের উপর আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দিনের পর দিন অত্যাচার চালাচ্ছে যে ইসরাইল, তাদের ব্যাপারে টু শব্দটি না করলেও এবার সিরিয়ান সরকারের উপর চোখ পরেছে আমেরিকার সিরিয়া যদি সত্যি সত্যি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেই থাকে , তবে সেটা অবশ্যই গুরুতর অভিযোগ কিন্তু একই কারনে সাদ্দামের বিরুদ্ধে সংঘটিত ইরাক যুদ্ধের পর কে আমেরিকাকে বিশ্বাস করবে বলুন ? মূলকথা হচ্ছে  দিন দিন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বাসার এর সরকার। আমেরিকা যদিও বলছে বেসামরিক লোকজনকে বাচাঁনোর জন্যই তাদের এই আক্রমন পরিকল্পনা , কিন্তু মূল কথা হচ্ছে সিরিয়ান বিপ্লবীদের বাচাঁনোর জন্যই আমেরিকার এই আক্রমন আর আমেরিকা যে বিরোধী বিপ্লবীদের বাচাঁনোর জন্য এই আক্রমন করছে ,তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আল কায়েদার শাখা বলে পরিচিত নুসরা ফ্রন্ট সত্যি ভাবতে অবাক লাগে যে,  যারা আল-কায়েদাকে নিশ্চিন্ন করার জন্য বিশ্বের এক প্রান্তে একের পর এক ড্রোন হামলা করে নীরিহ মানুষজন কে হত্যা করছে, সেই তারাই আল-কায়েদার অপর এক অংশকে বাচাঁনোর জন্য  বিশ্বের অপর এক অংশে ব্যাপক সামড়িক অভিযানের আয়োজন করছে  এই হচ্ছে আমেরিকা তার দোসরদের দ্বি মূখী নীতি একথা এখন সত্যিই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে যে, বিশ্বকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের আড়ালে শোষন করার ক্ষেত্রে আমেরিকার মূল দোসর ব্রিটেন বা পশ্চিমা কোন রাস্ট্র নয় খোদ বরং খোদআল কায়েদা“ !!!  আমেরিকার এই আক্রমন এর ঘোষনা  দেয়ার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধনুকের ছিলার মত টানটান হয়ে আছে কেননা আমেরিকা যে
ধরনের আক্রমন পরিকল্পনা করেছে তাতে সিরিয়ান রা তাদের টিকিটিরও দেখা নাও পেতে পারে আর বাসার সরকার যদি দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থায় জর্দান, তুরস্কের আমেরিকান ঘাটি বা ইসরাইলে আমেরিকার স্বার্থে আঘাত করে বসে তবে পরিস্থিতি হতে পারে আরো ঘোলাটে যদিও উক্ত দেশগুলোর প্রতিটিরই রয়েছে অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র বিরোধী ব্যবস্থা  যা আমেরিকানদেরই  সরবরাহ করা সব মিলে বলা যায় যে ,চীন এবং রাশিয়া এখন পর্যন্ত সিরিয়াকে সমর্থন দিয়ে গেলেও  আমার মনে হয় তাদের ভূমিকা সর্মথন দেয়া পর্যন্তই বরং এই যুদ্ধে কেউ যদি সিরিয়ার পাশে দ্বাড়ায় তবে  সেটা হবে তাদের বহু পুরোনো মিত্র লেবানন ভিত্তিক সংগঠন হিযবুল্লাহ ( যদিও সংগঠনটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত ) আর ইরান নিজেদের সমস্যা নিয়ে এত ব্যস্ত যে ,  এর উপর চোখ রাখলেও তারা এই ঝামেলার মধ্যে নিজেদের জড়াতে  চাইবে বলে মনে হয় না বাসার একজন একনায়ক , আমি একনায়কতন্ত্রকে সমর্থনও  করিনা কিন্তু আমি একনায়কতন্ত্রকে যতটা অপছন্ন্দ করি  তার চাইতেও বেশি অপছন্দ করি বর্তমানে প্রচলিত এই আমেরিকান তন্ত্র !! যাই হোক না কেন যুদ্ধ কখনই কারও কাম্য নয় , কেননা হঠকারী কোন রাস্ট্র নায়কের কারনে একদিন হয়ত এমন কোনযুদ্ধ থেকেই সৃষ্টি হবে ৩য় বিশ্ব যুদ্ধের আর সেটা হবে এই আধুনিক বিশ্বের পতনের শুরু.....................

Wednesday, July 31, 2013

ক্রিকেট নিয়ে ভালবাসা ও কষ্টের কিছু কথা

একটা ঘটনা বলি , ধরেন আপনি কাউকে খুব ভালবাসেন তো আপনাদের দুজনের এই ভালবাসার মাঝে যদি কেউ ভিলেন হয়ে দ্বারায় আর তার জন্য আপনি ভালবাসার মানুষটিকে হারিয়ে ফেলেন,তো আপনি কষ্ট পাবেন কিন্তু ভালবাসার মানুসটি যদি নিজেই আপনাকে ফাঁকি দেয় তো আপনি আরও বেশি কষ্ট পাবেন । তেমন ফাকিঁর কারনে আমিও এখন অনেক কষ্টে ভুগছি ..........

এবারে আসি আর একটি ঘটনায় ” এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা, আমি তখন রংপুর টিটি কলেজে একটা টেনিং এ অবস্থান করছি , ফাইনালটা দেখার জন্য মন আনচান আনচান করছিল !! দুপুরে খাবার সময় এসে পাকিস্থানের ইনিংসের শেষটা দেখলাম , তাতেই দেখা হয়ে গেল শাহাদত কান্ড !!! তখনই বলেছিলাম এই ওভারটা আমাদের ভোগাবে । এরপর ট্রেনিং শেষ করে মটরবাইকে ছুটলাম বাড়ির দিকে , উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ২য় ইনিংস দেখা , ক্লাব থেকে বন্ধুরা বার বার ফোন দিচ্ছিল, তারাতারি আয় একসাথে খেলা দেখব । এলাকায় পৌছেঁই বাসায় না গিয়ে ক্লাবেই সবার সাথে খেলা দেখতে বসলাম । কিন্তু নাটকীয়তায় জয় আমাদের হাতের মুঠো থেকে বের হয়ে গেল । সেই সময় ক্লাবে ৩০-৩৫ জন মানুষ ছিল , কেউ কারও সাথে কথা না বলেই ১৫-২০ জন যেন কিভাবে বের হয়ে গেল , বাকি যারা ছিল কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছিল না , শুধু লুকিয়ে চোখ কচলাচ্ছিল , প্রত্যেকেই পা্প্ত বয়স্ক কিন্তু সেদিন ক্লাবে শুধু ফোপানির শব্দ ছাড়া আমি কিছুই শুনিনি !!! এই হচ্ছে বাংলাদেশকে নিয়ে, ক্রিকেটকে নিয়ে আমার মত সাধারন মানুষের আবেগ !!!!

বাকি ঘটনা গুলাও শুনেন........... তথন আমি পুলিশ লাইন কলেজে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ পড়ি ক্রিকেট গার্ডেনে খেলা দেখতে গিয়ে Mohammad Ashraful এর সাথে প্রথম এবং একমাত্র কথা বলা , তাকে প্রশ্ন করেছিলাম শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ১০০ মাড়া ব্যাটটা কোথায় , উত্তরে সে বলেছিল ঢাকায় রেখে এসছি !!! ব্যাস , এতই আমি মহা খুশি , কলেজের সব সব বন্ধুরে বলে বেড়িয়েছি সে কথা ! বলব নাই বা কেন ? বিশ্ব রেকর্ড করা ব্যাটসম্যানের সাথে কথা বলেছি কম তো নয় ??? ভাললাগাটা আরও বেশি এই কারনে যে,আমি যে বছর এস এস সি পরীক্ষা দেই সে বছরই আ্যাশ এর পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল ।সে হিসেবে তো সে আমার ইয়ারমেটও তাই না !! তাই ওরে সব সময় অনেক কাছের মানুষ মনে হয় । সব সময়ই মনে পড়ে কাছের সেই মানুষটির খেলা ইনিংসগুলো ........কার্ডিফের সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর ৯৮ ,বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৮৭ বা টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখের পলকেই খেলে ফেলা সেই ইনিংস অথবা ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সেই দেড় শতকের ইনিংসটা !! হ্যাঁ জানি সে খুবই অধারাবাহিক তারপরও তাকে এত ভাল লাগে কেননা বাংলাদেশের প্রথমদিককার সব বড় জয়ে তার একক অবদান তাছাড়া সে যেদিন খেলে সেদিন শচীনকেও তার কাছে নস্যি মনে হয় !!!! মনে পড়ে তাকে সাপোর্ট করার জন্য বন্ধু . ছোট ভাইদের কত কথাই না শুনতে হয়েছে !!!

খালেদ মাহমুদ, পাকিস্থান সফরে হঠাৎ করে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন, টেষ্টে মারাত্মক ফাইট দেয়ার পর একটা ওয়ানডেতেও জিতে যাই যাই অবস্থা !! এমন সময় কে যেন লং অনে মিসফিল্ডিং করে একটা রান বেশি দিল ,সেদিন দেখেছিলাম মাঠেই খালেদ মাহমুদ এর সেকি রাগ !! কিন্তু রাগের চাইতেও বেশি মনে পড়ছে তার কাদোঁ কাদোঁ মুখটা , তখনই বুঝেছিলাম দেশের প্রতি, ক্রিকেটের প্রতি তার ভালবাসা ।

খালেদ মাসুদ পাইলট , যতদিন খেলেছিলেন সবসময় তার দায়িত্ব পড়ত দে্শের সম্মান বাচাঁনোর আর সে কাজে তিনি বেশির ভাগ সময়ই সফল সে ব্যাপারে আমার সাথে অনেকেই একমত হবেন । শুধু তাই নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ৩ জন মানুষের ক্রিকেট মস্তিস্ককে আমি সব সময় সম্মান করি একজন হচ্ছেন বর্তমান অধিনায়ক মুশি আর বাকি ২ জন মাসুদ এবং মাহমুদ ।

মোহাম্মদ রফিক , কি অমায়িক একজন মানুষ !! দল যখন বিপদে সব সময় অধিনায়কের আস্থা ছিলেন রফিক ভাই , তখন মনে হত ইসস ! ওয়ানডেতেও একজন বোলার কেন যত খুশি তত বল করতে পারবে না ? পারলেতো আমরা রফিকরে দিয়ে পুরা ৫০ ওভারই বল করাইতাম !!! শুধু এটাই না আমি মনে করি এখন পর্যন্ত বিশ্বের শ্রেষ্ট বাঁহাতি স্পিনার এর নাম মোহাম্মদ রফিক , হ্যাঁ ভেট্টোরির কথা মনে থাকা স্বত্তেও !! মনে রাখবেন উনি শুধু ভাল বল করতেন তাই না , খেলেছিলেন বাংলাদেশ নামক একটা দেশের হয়ে , যখন দেশটা্ ক্রিকেটে কেবলই শিশু !!!

এদের সবার নামেই ম্যাচ ফিক্সিং এর অভিযোগ উঠেছে । বিশ্সাস করতে কষ্ট হয় কিন্তু উড়িয়েও দিতে পারছি না কেননা রিপোর্টটা প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো নামক একটা পত্রিকায় ! আর তা লিখেছেন উৎপল শুভ্র নামের একজন রিপোর্টার যিনি নিজে এবং এই পত্রিকাটি সব সময় আশরাফুলকে সাপোর্ট দিয়ে গেছেন এমনকি তার চরম দুঃসময়েও ( আমার মনে হয় শুভ্রদা প্রথমে আশরাফুলে একজন ফ্যান তার পর ক্রিড়া লিখিয়ে ) এতকিছুর পরও আমি চাই রিপোর্ট টা মিথ্যা হোক , মিথ্যা হোক সবকিছু। ‍আমি ভুলে যেতে চাই ক্যালেন্ডার এর গত ১ মাসের সবগুলো দিন !!! কিন্তু যদি সত্য হয় তবে কি হবে ?? যদি সত্যই হয় আমি চাই শাস্তি হোক আশরাফুলদের ,শাস্তি তাদের প্রাপ্য কিন্তু তারপরও ভুলে যাব না তোমাদের , ছোটবেলা থেকেই বইয়ে পড়েছি পাপকে ঘৃনা কর পাপীকে নয় । তাই তোমাদের পাপটাকেই ঘৃনা করতে চাই তোমাদেরকে নয় !!! এ গেল আবেগের কথা যুক্তির কিছু কথাও আছে । তবে অত যুক্তিতে যাব না , আকসু কে শুধু বলব , একা আশরাফুলের পক্ষে একটা গোটা একটা ম্যাচ ফিক্সিং করা সম্ভব নয় । তাছাড়া সে নিয়মিত অধিনায়কও ছিল না , তাই ভাল করে খোঁজ নিন ,নিয়মিত অধিনায়ককে বসিয়ে কে তারে ওই ম্যাচটাতে অধিনায়ক বানিয়ে দিল ?? পাইলেও পাইতে পারেন অমুল্য (অজানা) কিছু .....

Monday, July 22, 2013

স্বপ্নের টাঙ্গুয়ার হাওড়

এইটা একটা স্বপ্ন বিষয়ক পোষ্ট , যদিও এই সব স্বপ্ন টপ্ন কেন জানি আমার আসে না ! তাছাড়া আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার চাইতে দিনের বেলা জেগে স্বপ্ন দেখতেই পছন্দ করি, কেননা এইটা বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । একটা সময় ছিল মানুষের স্বপ্নের গল্প শুনতে শুনতে আমি “মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে “ এই জাতীয় বিষয় পড়ে যে জ্ঞান লাভ করেছিলাম তার প্রয়োগও করার চেষ্টা করছিলাম !!!! রীতিমত প্রাকটিস ম্যাচ খেলে আসল ম্যাচের অপেক্ষায় থাকার মত । কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও আমি স্বপ্ন দেখিনি , হ্যাঁ মাঝে মাঝে টুকটাক, ছোট স্বপ্ন দেখেছি বটে কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন মনে করার চেষ্টা করেছি , তখন দেখি মাথা পুরাই empty !!!! এটা নিয়েও মজার ঘটনা আছে , স্বপ্ন দেখে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেছে , সাথে সাথে মোবাইল এর মেসেজ অপশনে যা মনে আছে শর্টহ্যান্ডে লিখে রেখেছি কারন সকাল বেলা তো আবার সেটা মনে থাকবে না !!!
যাইহোক গতরাতে আমি অনেক লম্বা একটা স্বপ্ন দেখেছি এবং সেটা কেন জানি খুব সুন্দর ভাবে মনে আছে । আসলে গত কয়েকদিন থেকে মনটা কিছুটা বিক্ষিপ্ত , বাবা মা দুজনই অসুস্থ্য !!! কর্মস্থলে কাজের চাপ,পারিবারিক টেনশন আর সামাজিক কিছু বিষয় নিয়ে চাপটা কাটানোর জন্য গতকাল বেশকিছু সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলাম । কয়েকঘন্টার নির্মল সেই আড্ডাটা সত্যিই মনটা কিছুটা হালকা করে দিয়েছে । সেই সাথে গতরাতে আমার প্রিয় একজন মানুষ পানির রাজ্য টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেরাতে যাওয়ার একটা “ট্যুর প্লান” ঘোষনা করেছে , আমি অনেকদিন থেকেই সেখানে যেতে চাচ্ছি তাই এইটা দেখার পর আরও excited হয়ে গেছিলাম । সবমিলে জগাখিচুরি মার্কা একটা স্বপ্ন !!! ভাবছেন স্বপ্নে কি দেখলাম সেটা নিয়ে আপনাদের সামনে প্যাচাল পারছি কেন ? স্বপ্ন নিয়ে এত কথা বলছি শুধুমাত্র একটা অনুভুতি শেয়ার করার জন্য .. গতরাতের অনেক দৃশ্যই মনে আছে কিন্তু “ নৌকার পাটাতনে দুইদিকে ২ হাত মেলে শুয়ে আছি আমি , উপরে নীল আকাশ নীচে সাদা পানি , চারিদিকে যেদিকেই তাকাই শুধু পানি আর পানি ,পানি আর পানি..............এই দৃশ্যটা আমি কোন মতেই ভুলতে পারছি না । অপেক্ষায় আছি বাস্তবে সেই রকম একটা দৃশ্যের জন্য !!!